মূল কথা

pearl mantasha হলো বাঙালি কনের শাঁখা-পলার ওপরে বাহুতে পরার চওড়া অলংকার, যেখানে সোনার কাঠামোর সঙ্গে মুক্তোর সারি থাকে; এর নকশার ঐতিহ্য মুঘল আমলের, আর কেনার আগে মুক্তো আসল, কালচার্ড নাকি নকল এবং ধাতু সোনা নাকি প্লেটেড, তা লিখিতভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনি হয়তো কোনো আত্মীয়ের হাতে, ছবিতে বা দোকানের শো-কেসে মুক্তার মানতাশা দেখেছেন। কিন্তু এটি আসলে কী, তা কেউ বুঝিয়ে বলেনি। সংক্ষেপে বলতে গেলে, মুক্তার মানতাশা হলো সোনার কাঠামোর ওপর মুক্তার সারি দিয়ে তৈরি একটি চওড়া বাঙালি রিস্টলেট বা হাতের গয়না। মানতাশার নকশা আধুনিক বিয়ের ফ্যাশন থেকে নয়, বরং মুঘল আমল থেকে এসেছে।

বেশিরভাগ বিক্রেতা এই ইতিহাস এড়িয়ে যান। তারা শুধু ডিজাইন আর দাম দেখিয়েই থেমে যান। এই গাইড আপনাকে বাকি সব জানাবে—এর উৎস কোথায়, ভালো মানের গয়না চেনার উপায় এবং বিয়ের পরেও এটি কীভাবে ব্যবহার করবেন।

মুক্তার মানতাশা আসলে কী

এর আকার দেখলেই চেনা যায়। মানতাশা বেশ চওড়া হয় এবং এটি কব্জির ঠিক ওপরে হাতের সামনের অংশে (forearm) বসে থাকে। মুক্তার সংস্করণে সোনার কাঠামোর ভেতরে বা পাশাপাশি মুক্তার সারি গেঁথে দেওয়া হয়।

ওয়েডিং-সূত্রর বাঙালি কনের গয়নার গাইড অনুযায়ী, এটি সোনার সূক্ষ্ম কারুকাজ করা একটি চওড়া রিস্টলেট। এতে প্রায়ই একটি চিকন চেইন থাকে যা আংটির সাথে যুক্ত থাকে। এই চেইনটি মানতাশাকে দুটি পয়েন্টে আটকে রাখে, যাতে এটি হাতের ওপর সমানভাবে বসে থাকে এবং ঘুরে না যায়।

দ্বিতীয় পার্থক্য হলো এর প্রস্থ। বালা সাধারণত সরু এবং বন্ধ থাকে। কিন্তু একটি মানতাশা হাতের কয়েক সেন্টিমিটার জায়গা জুড়ে থাকে। ফলে সোনা কম থাকলেও এটি দেখতে বেশ ভারী গয়না মনে হয়।

দোকানে এই গয়নাটি বিভিন্ন নামে থাকতে পারে—পার্ল মানতাশা ব্রেসলেট, মুক্তার মানতাশা চুড়ি বা মানতাশা রিস্টব্যান্ড সবই মূলত এই একই অলঙ্কার।

মানতাশা নকশার উৎস

এই নকশার ইতিহাস খুঁজলে আপনি মুঘল কারখানায় পৌঁছে যাবেন। ক্রাফট রিভাইভাল ট্রাস্ট পরিচালিত এশিয়া ইন-সিএইচ (Asia InCH) হেরিটেজ এনসাইক্লোপিডিয়া অনুযায়ী, মানতাশা একটি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি অলঙ্কার। এতে সোনার সেটিংয়ে মুক্তা এবং মূল্যবান পাথরের ব্যবহারের কথা উল্লেখ আছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে এই নকশার উৎস মুঘল আমল।

রতনচূড় যেভাবে বাঙালি গয়নার জগতে এসেছে, মানতাশাও ঠিক সেভাবেই এসেছে। উভয়ই মুঘল দরবারের রুচি থেকে অনুপ্রাণিত। পরবর্তীতে বাংলার স্থানীয় স্বর্ণকাররা একে নিজেদের মতো করে নতুন রূপ দিয়েছেন।

একই সূত্র থেকে আরও একটি দরকারি তথ্য পাওয়া যায়। কিছু মানতাশায় কোনো রত্ন থাকে না, শুধু সোনা বা রুপার কাজ থাকে। মুক্তার ব্যবহার এখানে ঐতিহ্যবাহী হলেও তা বাধ্যতামূলক নয়।

কলকাতার স্বর্ণশিল্পীদের পাড়াগুলো এখনো আগের মতোই আছে। বউবাজার, বাগবাজার, ভবানীপুর, কালীঘাট এবং গড়িয়াহাট এখনো এই ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র।

মুক্তা এবং মানতাশার মেলবন্ধন কেন

মানতাশায় মুক্তার ব্যবহার কোনো মার্কেটিং টিমের পরিকল্পনা নয়; এটি এই গয়নার ঐতিহ্যেরই অংশ।

এর একটি ব্যবহারিক কারণও আছে। বিয়ের উজ্জ্বল আলোতে হাতের ওপর চওড়া সোনার ব্যান্ড অনেক সময় অনুজ্জ্বল দেখাতে পারে। মুক্তার সারি সেই একঘেয়েমি দূর করে। পালিশ করা সোনার চেয়ে মুক্তা ভিন্ন কোণ থেকে আলো প্রতিফলিত করে।

রঙের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালি কনেরা সাধারণত লাল বেনারসি পরেন। লাল সিল্কের ওপর সাদা মুক্তা খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। ছবির ক্ষেত্রে সোনার ওপর সোনা অনেক সময় ঝাপসা মনে হতে পারে।

এছাড়া ওজনের বিষয়টিও আছে। মুক্তা গয়নাটিকে দেখতে ভারী করে তোলে কিন্তু আসল ওজন খুব একটা বাড়ায় না। যখন আপনি হাতে চওড়া কিছু পরছেন, তখন এটি বেশ আরামদায়ক হয়।

তুলনা করার মতো চারটি মুক্তার মানতাশা স্টাইল

বাজারে সাধারণত চার ধরনের মানতাশা দেখা যায়। এদের পার্থক্য শুধু বাহ্যিক নয়, বরং দাম, স্থায়িত্ব এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা থাকে।

নিখাদ সোনার ঐতিহ্যবাহী বিয়ের মানতাশা

চওড়া সোনার কাঠামো, নকশা বা ফিলিগিরি কাজ এবং ধারের দিকে বা মাঝখানে মুক্তার সারি—এটি হলো বংশপরম্পরায় রাখার মতো গয়না। এটি চারটির মধ্যে সবচেয়ে ভারী এবং দীর্ঘস্থায়ী।

যদি আপনি মানতাশাটিকে শুধু বিয়ের ছবির জন্য নয়, বরং পরিবারের সম্পদ হিসেবে রাখতে চান, তবে এটি বেছে নিন।

বিয়ের জন্য হালকা ওজনের মুক্তার মানতাশা

দেখতে একই রকম চওড়া হলেও এতে সোনা অনেক কম থাকে। ফাঁপা বা শেল কনস্ট্রাকশন, বেশি মুক্তার ব্যবহার এবং ভরাট প্যানেলের বদলে জালের মতো কাজ (lacework) করে এটি তৈরি করা হয়।

ভারী বেনারসি এবং গলার গয়নার সাথে হালকা ওজনের মানতাশা কনেদের জন্য আরামদায়ক। আপনার হাতে ইতিমধ্যে শাঁখা, পলা এবং বালা থাকে। তার ওপর ভারী সোনার মানতাশা দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা কষ্টকর হতে পারে।

এশিয়া ইন-সিএইচ-এর তথ্যমতে, বর্তমানে ক্রেতারা কম পাথর এবং সূক্ষ্ম কারুকাজের হালকা গয়নার দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।

গোল্ড-প্লেটেড এবং মাইক্রো-প্লেটেড মুক্তার মানতাশা

এক্ষেত্রে মূল কাঠামো তামা, পিতল বা রুপার হয় এবং ওপরে সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। প্রলেপের পুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে এদের আলাদা করা হয়, যা মাইক্রোনে মাপা হয়।

খুব পাতলা প্রলেপ শুধু রঙ দেয়, কিন্তু বেশিদিন টেকে না। মাইক্রন প্লেটিং বেশ পুরু হয় এবং ঘর্ষণেও সহজে নষ্ট হয় না। তবে মনে রাখবেন, এগুলো আসল সোনা নয় এবং বিক্রেতার উচিত নয় একে সোনা হিসেবে বিক্রি করা।

রিসেপশন বা সংগীতের অনুষ্ঠানের জন্য প্লেটেড গয়না ভালো। এছাড়া ভিন্ন কোনো রঙের মানতাশা চাইলে এটি সাশ্রয়ী বিকল্প।

ডিজাইনার এবং মীনাকারি মুক্তার মানতাশা

মীনাকারি হলো এনামেলের কাজ, যা কয়েক শতাব্দী আগে পারস্য থেকে ভারতীয় কারিগররা গ্রহণ করেছিলেন। মানতাশায় মুক্তার সারির মাঝে রঙিন মীনাকারি প্যানেল খুব সুন্দর দেখায়।

ডিজাইনার সংস্করণে সাদা মুক্তার বদলে ধূসর, পিচ বা বারোক (অসম আকৃতির) মুক্তাও ব্যবহার করা হয়।

হাতে তৈরি এই ধরনের মানতাশা ছবিতে দারুণ দেখায়। তবে সাধারণ নকশা করা গয়নার চেয়ে এর ফ্যাশন দ্রুত পুরনো হয়ে যেতে পারে। তাই এতে বিনিয়োগ করার আগে ভেবে নিন।

মানতাশা বনাম বালা, বাউটি এবং রতনচূড়

বাঙালি কনেরা সাধারণত হাতে একাধিক গয়না পরেন। মানতাশা অন্য গয়নার সাথে কীভাবে মানাবে তা জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়ানো যায়।

অলঙ্কার

এটি কী

কোথায় পরে

মুক্তা থাকে কি?

বিয়ের পরে ব্যবহার

মানতাশা

চওড়া রিস্টলেট, প্রায়ই আংটির সাথে চেইন থাকে

হাতের সামনের অংশ, শাঁখা-পলার ওপরে

হ্যাঁ — এটি ঐতিহ্যের অংশ

পূজা, উৎসব, পারিবারিক বিয়ে

বালা

মোটা বন্ধ সোনার চুড়ি

কব্জি

খুব কম

প্রায়ই, এমনকি প্রতিদিনও

বাউটি

লাগা ভরা অর্ধেক কাটা সোনার চুড়ি

কব্জি

খুব কম

নিয়মিত ব্যবহারের জন্য জনপ্রিয়

রতনচূড়

পাঁচ আঙুলের আংটির সাথে যুক্ত রিস্টলেট

হাতের পিঠ

মাঝে মাঝে

বিশেষ অনুষ্ঠানে

কেনাকাটার আগে একটি বিষয় মনে রাখা ভালো। ওয়েডিং-সূত্রর মতে, কনে যদি মানতাশা পরেন, তবে সাধারণত রতনচূড় এড়িয়ে চলাই ভালো। দুটি গয়নাই হাতের অনেকটা জায়গা দখল করে, তাই একসাথে পরলে দেখতে খুব ঘিঞ্জি লাগতে পারে।

আমাদের ২০২৬ সালের রতনচূড় ডিজাইন গাইড থেকে আপনি এর পার্থক্য আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

ভালো মানের মুক্তার মানতাশা চেনার উপায়

প্রথমে মুক্তার উজ্জ্বলতা (Lustre) দেখুন। জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ আমেরিকা (GIA) অনুযায়ী, মুক্তার মান নির্ধারণের সাতটি বিষয়ের মধ্যে উজ্জ্বলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চমৎকার উজ্জ্বলতা মানে হলো মুক্তার ওপর আলোর প্রতিফলন হবে স্পষ্ট এবং তীক্ষ্ণ।

36/68 Gold Floral Pearl Mantasha

36/68 Gold Floral Pearl Mantasha

₹70,576

Buy Now
36/49 Regal Lotus Pearl Mantasha

36/49 Regal Lotus Pearl Mantasha

₹68,781

Buy Now
36/53 Floral Radiance Pearl Mantasha

36/53 Floral Radiance Pearl Mantasha

₹66,399

Buy Now
36/58 Leaf Radiance Pearl Mantasha

36/58 Leaf Radiance Pearl Mantasha

₹65,357

Buy Now

দোকানের আলোতে গয়নাটি ঘুরিয়ে দেখুন। প্রতিটি মুক্তার ওপর একটি ছোট এবং তীক্ষ্ণ আলোর বিন্দু দেখা যাওয়া উচিত। যদি আলো ঝাপসা দেখায়, তবে বুঝতে হবে মুক্তার মান ভালো নয়।

এরপর দেখুন মুক্তাটি চকচকে নাকি খড়খড়ে (chalky)। GIA-র মতে, অনুজ্জ্বল বা খড়খড়ে ভাব মানে হলো মুক্তার ওপরের স্তর বা 'নেকার' (nacre) খুব পাতলা। নেকার যত পুরু হবে, মুক্তা তত বেশি টেকসই এবং উজ্জ্বল হবে।

তৃতীয়ত, মুক্তার মিল পরীক্ষা করুন। সারিবদ্ধ মুক্তার ক্ষেত্রে আকার এবং রঙের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। এক সারির সব মুক্তা যেন একই রকম দেখতে হয়।

সরাসরি জিজ্ঞেস করুন: এগুলো প্রাকৃতিক (natural), কালচারড (cultured) নাকি ইমিটেশন মুক্তা? কালচারড মুক্তা হলো আসল মুক্তা যা মানুষের তত্ত্বাবধানে চাষ করা হয়। বর্তমানে বেশিরভাগ আসল গয়নায় এটিই ব্যবহৃত হয়। ইমিটেশন মুক্তা হলো কাঁচ বা প্লাস্টিকের ওপর প্রলেপ দেওয়া। সস্তা অনলাইন শপে সাধারণত ইমিটেশন মুক্তাই থাকে।

সবশেষে, গয়নার হুক বা ক্ল্যাপস কয়েকবার খুলে এবং লাগিয়ে দেখুন। যেখানে মুক্তার সারি সোনার সাথে মিশেছে, সেখানে আলতো করে চাপ দিয়ে দেখুন কোনো অংশ ঢিলে কি না।

যদি গয়নাটি নিরেট সোনার না হয়, তবে প্লেটিং কত মাইক্রনের তা জেনে নিন। শুধু "গোল্ড-প্লেটেড" কথায় সন্তুষ্ট হবেন না।

মানতাশার দাম কেন কম-বেশি হয়

দুটি প্রধান কারণে দামের পার্থক্য হয়—গয়নায় কতটুকু সোনা আছে এবং কী ধরনের মুক্তা ব্যবহার করা হয়েছে।

এছাড়া অন্যান্য কারণগুলো হলো:

  • তৈরির ধরণ: ফাঁপা বা শেল ডিজাইনে সোনা কম লাগে, তাই দামও কম হয়।

  • মুক্তার গ্রেড: গোল এবং উজ্জ্বল মুক্তার দাম বেশি। GIA-র মতে, একদম গোল মুক্তা পাওয়া সবচেয়ে কঠিন।

  • হাতের কাজ: হাতে তৈরি নকশা বা ফিলিগিরি কাজ করতে অনেক দিন সময় লাগে, তাই এর মজুরি বেশি। মেশিনে তৈরি গয়নার দাম কম হয়।

  • মীনাকারি: এনামেলের কাজের জন্য আলাদা কারিগরের প্রয়োজন হয়, যা খরচ বাড়ায়।

  • প্লেটিং: প্লেটেড গয়নার ক্ষেত্রে মাইক্রন লেয়ার যত পুরু হবে, দাম তত বাড়বে।

সোনার দাম প্রতিদিন পরিবর্তন হয়। তাই অনলাইনে দেখা দামের চেয়ে দোকানের বর্তমান দাম আলাদা হতে পারে। কেনার সময় ওজন এবং বর্তমান রেট অনুযায়ী লিখিত কোটেশন চেয়ে নিন।

বিয়ের শাড়ির সাথে মুক্তার মানতাশা স্টাইলিং

লাল বেনারসি হলো ডিফল্ট পছন্দ, আর এর সাথে মুক্তা দারুণ মানায়। লাল এবং সোনালি কাজের ওপর সাদা মুক্তা হাতের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। শুধু সোনার গয়না অনেক সময় শাড়ির জরির কাজের সাথে মিশে যায়।

বালুচরী বা স্বর্ণচরী শাড়িতে অনেক বেশি কাজ থাকে। এই ধরনের শাড়ির সাথে সাধারণ ডিজাইনের মানতাশা পরুন, যাতে হাতের গয়না শাড়ির সাথে পাল্লা না দেয়।

গরাদ বা অফ-হোয়াইট সিল্কের সাথে যেকোনো মুক্তার মানতাশা ভালো লাগে। এক্ষেত্রে রঙিন মীনাকারি করা ডিজাইন বেশি ফুটে ওঠে।

হাতে পরার নিয়ম হলো—শাঁখা এবং পলা কব্জির সবচেয়ে কাছে থাকবে। মানতাশা থাকবে তার ওপরে। আঙুলের চেইনটি হাতের পিঠের ওপর দিয়ে আংটিতে যাবে।

শাঁখা-পলা এবং মানতাশার মাঝে কিছুটা ফাঁকা রাখুন। একদম গায়ে গায়ে পরলে হাতটি দেখতে খুব ভরাট মনে হতে পারে। আমাদের সোনার শাঁখা ডিজাইন ট্রেন্ড গাইডটি দেখে নিতে পারেন।

যদি গলার গয়না খুব ভারী হয়, তবে হাতের গয়না কিছুটা হালকা রাখুন। একটি বালা এবং মানতাশা সাধারণত বালা, চুর এবং মানতাশার চেয়ে বেশি মার্জিত দেখায়। মুক্তার সীতাহার বনাম সোনার সীতাহার নিয়ে আমাদের তুলনাটি আপনার কাজে আসতে পারে।

শরীরের গঠন অনুযায়ী গয়না বাছুন। সরু হাতে চিকন মানতাশা ভালো লাগে, আর ভরাট হাতে চওড়া মানতাশা বেশি মানানসই।

বিয়ের পরেও মানতাশা ব্যবহার

বিয়ের পর মানতাশা আলমারিতে তুলে না রেখে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরতে পারেন। এটি একটি ফরমাল গয়না, তাই অফিসে পরার মতো নয়।

31/126 Floral Cluster Mantasha

31/126 Floral Cluster Mantasha

₹79,925

Buy Now
31/125 Paisley Wire Mantasa

31/125 Paisley Wire Mantasa

₹80,376

Buy Now
31/118 Matsya Solid Mantasa

31/118 Matsya Solid Mantasa

₹80,376

Buy Now
31/121 Paisley Link Mantasa

31/121 Paisley Link Mantasa

₹89,240

Buy Now

দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজা বা অষ্টমীর সকালে এটি পরার জন্য উপযুক্ত সময়। এছাড়া পারিবারিক বিয়ে বা পহেলা বৈশাখেও এটি পরা যায়।

বিয়ের পরেও এটি ব্যবহারের তিনটি টিপস:

  1. পরিমিত ডিজাইন বাছুন: খুব বেশি জমকালো ডিজাইনের চেয়ে কিছুটা সাধারণ ডিজাইন বারবার পরা যায়।

  2. আঙুলের চেইন ছাড়া পরুন: অনেক মানতাশার আংটি খোলার ব্যবস্থা থাকে। চেইন ছাড়া এটি একটি চওড়া ব্রেসলেট বা কাফ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

  3. সিম্পল লুক: সাধারণ ঢাকাই জামদানির সাথে শুধু একটি মুক্তার মানতাশা পরলে আপনাকে খুব আভিজাত্যপূর্ণ দেখাবে।

প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য বাউটি বা বালা বেশি ভালো। আমাদের বাউটি ডিজাইন বাজেট গাইড থেকে আপনি আরও ধারণা পেতে পারেন।

মুক্তার যত্ন নেওয়ার উপায়

GIA অনুযায়ী, মোহস স্কেলে মুক্তার কঠোরতা মাত্র ২.৫। এটি খুব নরম এবং সহজেই আঁচড় লেগে যেতে পারে। তাই এর বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।

GIA-র মুক্তার যত্ন নেওয়ার নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাসায়নিক দ্রব্য এবং অ্যাসিড মুক্তার ক্ষতি করতে পারে। হেয়ার স্প্রে, পারফিউম, কসমেটিকস এমনকি ঘামও মুক্তার উজ্জ্বলতা নষ্ট করে। তাই মেকআপ এবং সুগন্ধি ব্যবহারের পর মানতাশা পরুন।

বাঙালি বিয়ের ক্ষেত্রে সিঁদুর এবং আলতা থেকেও মুক্তাকে দূরে রাখুন। এগুলো মুক্তার গায়ে দাগ ফেলে দিতে পারে।

মুক্তা কখনো আল্ট্রাসনিক বা স্টিম ক্লিনারে পরিষ্কার করবেন না। হালকা সাবান জল দিয়ে মাঝে মাঝে পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে প্রতিবার ব্যবহারের পর নরম কাপড় দিয়ে মুছে রাখা সবচেয়ে ভালো।

অতিরিক্ত তাপ বা সরাসরি সূর্যের আলোতে মুক্তা ফেটে যেতে পারে বা রঙ বদলে যেতে পারে। তাই এটি ঠান্ডা এবং শুকনো জায়গায় রাখুন।

মানতাশাটি একটি নরম কাপড়ের ব্যাগে আলাদা করে রাখুন। কলকাতার আর্দ্র আবহাওয়ায় প্লেটেড গয়না দ্রুত নষ্ট হয়, তাই বাক্সের ভেতরে সিলিকা জেল প্যাকেট রাখতে পারেন।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

মুক্তার মানতাশা কি প্রতিদিন পরা যায়?

না। মুক্তা খুব নরম হওয়ায় প্রতিদিনের ঘর্ষণে এর উজ্জ্বলতা কমে যায়। এছাড়া চওড়া হওয়ায় এটি জামার হাতা বা ব্যাগের স্ট্র্যাপে আটকে যেতে পারে। এটি বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য তুলে রাখুন।

মুক্তার মানতাশায় কি আসল মুক্তা থাকে?

দামি গয়নায় কালচারড মুক্তা থাকে যা আসল। সস্তা গয়নায় সাধারণত কাঁচ বা প্লাস্টিকের ইমিটেশন মুক্তা থাকে। কেনার সময় বিক্রেতার কাছ থেকে মুক্তার ধরণ জেনে নিন এবং রসিদে লিখিয়ে নিন।

গোল্ড-প্লেটেড এবং সোনার মানতাশার পার্থক্য কী?

সোনার মানতাশা পুরোপুরি সোনা দিয়ে তৈরি এবং এর মূল্য ওজনের ওপর নির্ভর করে। প্লেটেড মানতাশা তামা বা পিতলের ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া। এর দাম মূলত ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে।

অনলাইনে মুক্তার মানতাশা কোথায় কিনব?

এমন বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন যারা ওজন, ধাতু এবং মুক্তার ধরণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে। আমাদের মুক্তার মানতাশা কালেকশন দেখতে পারেন। খুব সস্তা অনলাইন ডিল থেকে সাবধান থাকুন।

মানতাশা কি দুই হাতেই পরা যায়?

ঐতিহ্যগতভাবে এটি এক হাতেই পরা হয়। সাধারণত অন্য হাতে বালা বা চুর পরে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। দুই হাতে পরলে দেখতে খুব ঘিঞ্জি লাগতে পারে।

মেহেদি বা রিসেপশনে কি মানতাশা পরা যায়?

মেহেদির সময় এটি না পরাই ভালো কারণ এটি হাতের অনেকটা জায়গা ঢেকে রাখে। তবে রিসেপশনে গাউন বা হালকা শাড়ির সাথে একটি সোনার মানতাশা দারুণ মানায়।

কেনার আগে যা মনে রাখবেন

তিনটি বিষয় নিশ্চিত করুন—সোনা নাকি প্লেটেড, চওড়া নাকি সরু ডিজাইন এবং মুক্তার ধরণ। কেনার আগে দিনের আলোতে গয়নাটি পরীক্ষা করে দেখুন। যদি মুক্তার উজ্জ্বলতা তীক্ষ্ণ হয় এবং কাজ নিখুঁত হয়, তবেই সেটি কিনুন।